প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 20, 2026 ইং
সহিংসতার পর প্যারিসে আংশিক কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে টানা দুই দিনের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে আংশিক কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং জনসেবার মান অবনতির প্রতিবাদে শনিবার থেকে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি সরকারি স্থাপনাতেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রোববারও সহিংসতা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেয় সরকার।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকরনু প্যারিসসহ কয়েকটি শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারির ক্ষমতা দেওয়ার কথা জানান। তবে পুরো প্যারিসে একযোগে কারফিউ জারির পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
প্যারিস পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় রাত ৮টা থেকে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্লাস দে লা রিপাবলিক ও লে আল এলাকায় রাত ১১টা থেকে কারফিউ কার্যকর করা হয়, যা মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত বহাল থাকার কথা। এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে লিল, দুয়ে, ওয়াতিনি ও দোন্যাঁ শহরে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। নিস শহরের কেন্দ্রীয় এলাকাতেও অপ্রাপ্তবয়স্কদের রাতের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে মার্সেইয়ে জনসমাগম ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ফ্রান্সের শ্রমিক ইউনিয়নগুলো আগামী ৫ নভেম্বর দেশজুড়ে নতুন করে ধর্মঘট ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দেশটির অর্থনৈতিক দুরবস্থা, বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে গভীর অসন্তোষের প্রতিফলন। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ছয় মাস আগে এই পরিস্থিতি ফরাসি সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বার্তা এক্সপ্রেস ২৪